স্কুল জীবনের ভৌতিক অভিজ্ঞতা — পর্ব ০২

 



“যে কক্ষে প্রবেশ নিষেধ… ঠিক সেখান থেকেই সবকিছুর শুরু”


পরের দিন আমরা তিনজনই স্কুলে গেলাম, কিন্তু আগের রাতের ঘটনার কথা কেউ কাউকে বলছিলাম না। মনে হচ্ছিল—যদি বলি, তাহলে ঘটনাটা সত্যি হয়ে উঠবে, আর সেটা আমরা কেউই চাই না।


কিন্তু সারা স্কুলটা যেন অদ্ভুতভাবে নীরব। করিডোরে হাঁটার সময়ও মনে হচ্ছিল, কেউ আমাদের পিছন থেকে দেখছে।


সকালের অ্যাসেম্বলির পর হেডস্যার ঘোষণা দিলেন—


“পুরনো সায়েন্স বিল্ডিং-এর ৩ নম্বর রুমে কেউ যেন না যায়। ওটা মেরামতের কাজ চলছে।”


৩ নম্বর রুম?


আমরা তিনজনই একে অপরের দিকে তাকালাম।

কারণ গতরাতের সাদা অবয়বটা ঠিক ওই রুমের জানালাতেই দেখা গিয়েছিল।


রিফাত আস্তে বলল,

“দোস্ত… এটা কি শুধু কাকতালীয় নাকি সত্যিই কিছু আছে ওখানে?”


সোহেল বলল,

“চল দেখি। দিনের বেলায় কিছু হবে না।”


আমি খুবই ভয় পেয়েছিলাম, কিন্তু জোর করে বললাম,

“হ্যাঁ… চল।”



---


দুপুরে আমরা চুপচাপ পুরনো সায়েন্স বিল্ডিং-এ ঢুকে পড়লাম।


পুরো বিল্ডিংটাই অন্ধকার, মেঝেতে ধুলা, দেওয়ালে পুরনো পোস্টার… আর এক ধরনের স্যাঁতসেঁতে গন্ধ।

আমরা ধীরে ধীরে ৩ নম্বর রুমের দিকে এগোচ্ছিলাম।


হঠাৎ—


টক্… টক্… টক্…


মনে হলো, রুমটার ভেতর থেকে কেউ হাঁটছে।


আমরা থমকে দাঁড়ালাম।


রিফাত ফিসফিস করে বলল,

“ভাই… ক্লাস চলছে না, কাজও কেউ করছে না… তাহলে শব্দটা কে করছে?”


আমি ঠোঁট শুকিয়ে গেলো, তবু বললাম,

“দরজা একটু খুলে দেখি।”


আমরা তিনজন দরজার সামনে দাঁড়িয়ে ধীরে ধীরে দরজাটা ঠেলে খুললাম।


দরজা খোলার সাথে সাথেই—


একটা ঠান্ডা বাতাস আমাদের মুখের ওপর সোজা এসে লাগল।


আলো খুব কম, জানালা বন্ধ… কিন্তু ঘরের কোণে একটা চেয়ার পড়ে আছে।

আর…


চেয়ারের উপর সাদা কাপড়ের মতো কিছু ঝুলে আছে।

একই কাপড়…

গতরাতে যে জানালায় দেখা গিয়েছিল।


সোহেল বলল,

“চাইলে চলে যাই। প্লিজ।”


কিন্তু ঠিক তখনই—


চেয়ারটা নিজে থেকেই নড়ে উঠল।


চেয়ারের দুই পা মেঝে ঘষে গা ছমছমে শব্দ করল, আর কাপড়টা ধীরে ধীরে নিচে নেমে এল।


আমরা তিনজন এক ধাপও নড়তে পারছিলাম না।

চোখের সামনে, কাপড়ের নিচ থেকে যেন একটা লম্বা ছায়া বেরিয়ে আসছিল।


হঠাৎই সেই ছায়াটি মাথা তুললো—


দুইটা ভয়ঙ্কর লাল চোখ জ্বলে উঠল!


আলোহীন অন্ধকারে সেই লাল চোখ দুটো আমাদের দিকে তাকিয়েই ছিল…

স্থির… নিঃশব্দ…

কিন্তু যেন অনেক পুরোনো কোনো রাগ ও ঘৃণা নিয়ে।


এক মুহূর্ত—


তারপর আমরা প্রাণপণে দৌড়ে বের হয়ে গেলাম।

জুতার আওয়াজ পুরো করিডোরজুড়ে প্রতিধ্বনি তুলছিল।


কিন্তু দৌড়াতে দৌড়াতে একটা শব্দ শুনলাম—


“থামো…”

কেউ যেন পেছন থেকে ফিসফিস করে ডাকল।


আমরা আর পিছনে তাকাইনি।



---


সেদিনের পর আমরা বুঝেছিলাম—


পুরনো সায়েন্স বিল্ডিং-এর ৩ নম্বর রুমে কিছু আছে।

কিছু… যেটা দেখতে চায় না কেউ সেখানে যাক।


এটাই ছিল শুরু।

আসল রহস্যটা তখনও সামনে আসেনি—

যে মানুষটা কয়েক বছর আগে ঠিক সেই রুমেই মারা গিয়েছিল…


Post a Comment

Previous Post Next Post

{ad}

{Ad}