“ওই দিনের রাতটা আমি কখনো ভুলতে পারবো না…”
স্কুল জীবনের একটা সময় আছে, যেটা আমি চাইলে ভুলে যেতে পারতাম… কিন্তু পারিনি। কারণ সেদিন যা দেখেছিলাম, তা শুধু ভয়ঙ্করই না—আজও মনে পড়লে গা শিউরে ওঠে।
আমাদের স্কুলটা ছিল গ্রামের প্রান্তে, একদম নির্জন জায়গায়। দিনের বেলা হাসাহাসি, খেলাধুলা… সব ঠিকই ছিল। কিন্তু সূর্য ডোবার পর পুরো পরিবেশটা যেন বদলে যেত। যেন বাতাসেও একটা অজানা ভয় লুকিয়ে থাকত।
সেদিন সন্ধ্যায় আমি আর আমার দুই বন্ধু—রিফাত আর সোহেল—স্কুলের পিছনের মাঠে খেলছিলাম। খেলা শেষ করে আমরা সবাই বাড়ির পথে বের হচ্ছিলাম। হঠাৎ রিফাত বলল—
“দেখেছিস? নতুন বিল্ডিংটার জানালায় যেন কেউ দাঁড়িয়ে আছে!”
আমরা দু’জন প্রথমে হাসলাম। ভুত-টুত বলে কিছু নেই—এই কথাই মাথায় ছিল। কিন্তু জানালার দিকে তাকানো মাত্রই মনে হলো, কেউ একজন সত্যি সত্যিই দাঁড়িয়ে আছে। সাদা কিছু একটা… নড়ছে না, তাকিয়েই আছে।
মনে হলো, বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা যেন এক ধাপ থেমে গেল।
সোহেল বলল, “চল কাছে গিয়ে দেখি!”
আমি একদমই যেতে চাইনি। তবু দল বেঁধে আমরা তিনজন এগিয়ে গেলাম। যত কাছে যাচ্ছি, ততই স্পষ্ট হচ্ছে সেই অবয়বটা। সাদা কাপড়ের মতো কিছু, লম্বা চুল ঝুলে আছে… আর জানালার ফাঁক দিয়ে যেন আমাদের দিকেই তাকিয়ে আছে।
আমরা জানালার সামনে পৌঁছানোর আগেই—
হঠাৎ সssশ করে শব্দ হলো, আর সেই সাদা অবয়বটা এক ঝলকে অদৃশ্য হয়ে গেল!
আমরা তিনজন কেউ আর এক সেকেন্ডও দাঁড়াইনি। প্রাণপণে দৌড়ে বাড়ি। দৌড়াতে দৌড়াতে মনে হচ্ছিল, পেছন থেকে কেউ যেন আমাদের অনুসরণ করছে… ঠান্ডা বাতাস বারবার গায়ে লাগছিল… আর দূর থেকে ভেসে আসছিল একটা অদ্ভুত কান্নার মতো শব্দ।
সেদিনের পর থেকে বুঝেছিলাম—
স্কুলটা শুধু স্কুল ছিল না; সেখানে আরও কিছু ছিল… যা সব চোখে দেখা যায় না।
এটাই ছিল আমাদের ভৌতিক যাত্রার শুরু।
পরের দিন স্কুলে গিয়ে যে ঘটনা আমাদের অপেক্ষা করছিল, সেটা আরও ভয়ঙ্কর ছিল…
---
পর্ব–২ seemore
