Bengali Horror Story – The Haunted Shoes


মৃত বর-এর জুতো: এক অভিশপ্ত বিবাহের গল্প


Bengali Horror Story – The Haunted Shoes



বিয়ের আগের রাত। গ্রামজুড়ে আনন্দ, আলোর ঝলক, আর ঢাকের আওয়াজ। কিন্তু পাটুলি গ্রামের পুরনো চক্রবর্তী বাড়ির আঙিনায় যেন এক অদ্ভুত অশুভ নীরবতা নেমে এসেছে।


এই বাড়িতেই বিয়ে হতে চলেছে অনন্যা আর সৌমেনের। সবকিছু ঠিকঠাকই চলছিল—যতক্ষণ না বর-এর জন্য আনা হলো এক জোড়া পুরনো, কালচে বাদামি রঙের জুতো।


জুতোগুলো দেখতে খুব দামি, কিন্তু এমন অদ্ভুত একটা ঠান্ডা ভাব ছিল ওগুলোর মধ্যে, যেন কেউ দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ জমিয়ে রেখেছে।



বিয়ের দিন দুপুরে, বর সাজানোর সময় জুতো দুটো সৌমেনের সামনে এগিয়ে দিল তার মামা।


—“ওটা পরে নে, খুব সৌভাগ্যের জুতো। তোর বাবার ছিল।”


সৌমেন জুতোগুলো হাতে নিয়েই আঁতকে উঠল। স্পর্শ করতেই হাতটা অবশ হয়ে এল।

চোখের সামনে যেন এক ঝটকা অন্ধকার।


কিন্তু সবাই হাসছে দেখে সে কিছু বলল না।


জুতো পায়ে দিতেই মনে হলো কেউ যেন চাপা স্বরে বলল—


“শেষ পর্যন্ত তোকে পেয়ে গেলাম…”


সৌমেন চমকে চারদিকে তাকাল। কেউ নেই।


সন্ধে নামতেই বিয়ের ঢাক বাজতে শুরু করল। সবাই অপেক্ষা করছে বর-এর জন্য।

কিন্তু সৌমেন আর বের হচ্ছে না।


তার বন্ধু জয় দৌড়ে ঘরে ঢুকে চিৎকার করে বেরিয়ে এল—


—“ওকে দেখছিস না? ওর চোখ… পুরো কালো হয়ে গেছে!”


লোকজন ছুটে গেল।

সৌমেন বসে আছে আয়নার সামনে।

চোখ দুটো ভয়ংকর ফাঁকা, নিঃশ্বাস অদ্ভুত ধীর।


সে শুধু একটা বাক্য বলল—


“জুতোটা খুলতে দিও না… ও এসে নিয়ে যাবে আমাকে।”


 মৃত বর-এর প্রত্যাবর্তন

অনন্যার বাবা পুরুতকে নিয়ে এলেন মন্ত্র পড়াতে।

জুতোর উপর পবিত্র জল পড়তেই জুতো দুটো হঠাৎ নড়ে উঠল।


তারপর—


ঠাস!

নিজে থেকেই মেঝেতে হাঁটতে শুরু করল।

অদ্ভুত তাল, যেন কেউ অদৃশ্য পায়ে হেঁটে যাচ্ছে।


পুরুহিত ভয় পেয়ে বলল—


—“এটা মানুষের নয়… এটা আত্মা-ধারী বস্তু।”


কিন্তু কার আত্মা?


হঠাৎ বাতাস ঠান্ডা হয়ে গেল।

দরজা নিজে থেকে বন্ধ হয়ে গেল।


কেউ এক অদৃশ্য গলায় বলে উঠল—


“আমি মৃত্যুর আগের বর… যে এই জুতো পরে বিয়ের পথে বের হয়েছিল… কিন্তু পৌঁছাতে পারিনি…”


সবাই স্তব্ধ।

চক্রবর্তী বাড়ির পুরনো কাহিনি সবার মনে পড়ল—

পনেরো বছর আগে অনন্যার মা ঠিক এই বাড়িতে আরেক বিয়ে দিয়েছিলেন।

বর বিয়ের পথে দুর্ঘটনায় মারা যায়।

জুতো দুটো তার রক্ত মাখা অবস্থায় বাড়িতে ফেরত আসে।

তারপর সেগুলো হারিয়ে যায়।


জুতোর ভিতর থেকে অদ্ভুত কালো ধোঁয়া বেরিয়ে সৌমেনকে ঘিরে ফেলল।

সে কাঁপতে কাঁপতে বলল—


—“ও বলছে… আমার শরীর তাকে দিতে হবে… আজই তার অসমাপ্ত বিয়ে হবে!”


জুতোগুলো সৌমেনের পায়ে আরও শক্ত হয়ে আটকে গেল।

সে যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠল।


অনন্যা চোখের জল নিয়ে সৌমেনের হাত ধরে চিৎকার করল—


—“যা চাও নাও! তাকে ছেড়ে দাও!”


হঠাৎ জুতোগুলো থেমে গেল।


ধীরে ধীরে বাতাসে ভেসে উঠল মৃদু মানব-সুলভ দীর্ঘশ্বাস।


এক অক্সিজেনহীন ভিজে গলা বলল—


“আমি শুধু একটা বধূ চাই… যে আমার ছিল…”


সেই মুহূর্তে অনন্যার মাথায় প্রচণ্ড ব্যথা অনুভূত হলো।

চোখের সামনে সবকিছু অন্ধকার হয়ে গেল।


ঘরের দরজা কেউ ভাঙতে পারছিল না।

ভিতর থেকে শুধু জুতোর শব্দ—

টক… টক… টক…

তারপর হঠাৎ থেমে গেল।


যখন দরজা ভাঙা হলো,

ভিতরে কেউ ছিল না।


শুধু পড়ে ছিল—


সৌমেনের শেরওয়ানি, অনন্যার লাল ওড়না,

আর সেই অভিশপ্ত জুতো দুটো।


জুতোগুলো তখনও অল্প অল্প নড়ছিল,

যেন নতুন কারও অপেক্ষায়।


Post a Comment

Previous Post Next Post

{ad}

{Ad}